দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু দ্বীপ যেন মৃত্যুপুরী: ৩ দিনে ৪ মরদেহ উদ্ধার, কাঠগড়ায় পুলিশ
কোরিয়া প্রতিনিধি | অনলাইন ডেস্ক
দক্ষিণ কোরিয়ার নয়নাভিরাম ও জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ জেজু (제주)। তবে শান্ত ও দৃষ্টিনন্দন এই দ্বীপটিতেই হঠাৎ যেন নেমে এসেছে কোনো থ্রিলার সিনেমার ছায়াবৃত আবহ। মাত্র ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দ্বীপের ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পুরো কোরিয়াজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনাগুলোর সঙ্গে জড়িত রহস্যের পাশাপাশি এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে স্থানীয় তদন্তকারী পুলিশের চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা ও অবহেলা।
২২ আগস্ট জেজুর গুজওয়া-উপ (Gujwa-eup) এলাকার সংদাং-রি থেকে নিখোঁজ এক ব্যক্তির (বয়স ষাটের কোঠায়) মরদেহ উদ্ধারের মাধ্যমে এই ঘটনার সূচনা হয়।
২৩ আগস্ট জোছনউপ (Jocheon-eup) এলাকার সমুদ্রে ভেসে ওঠে ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মরদেহ। নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর স্থানীয় এক মৎস্যজীবী পানিতে দেহটি দেখতে পেয়ে জরুরি সেবা বিভাগে খবর দেন।
২৪ আগস্ট (প্রথম উদ্ধার): জেজুর অন্যতম এলাকা অ্যাওল-উপ (Aewol-eup)-এর একটি উপত্যকার কাছ থেকে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
২৪ আগস্ট (দ্বিতীয় উদ্ধার): হাল্লিম-উপ (Hallim-eup) এলাকার একটি পামগাছের বাগান থেকে উদ্ধার করা হয় ৩৭ বছর বয়সী নারী জাং মি-রানের পচাগলে যাওয়া মরদেহ। তিনি গত মে মাস থেকে টানা ১০৪ দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশের ভুয়া তথ্য ও চরম গাফিলতি:
১০৪ দিন পর নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় কোরিয়ার জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, প্রাথমিক নিখোঁজ ডায়েরির পরই দায়িত্বপ্রাপ্ত এক পুলিশ কর্মকর্তা ভুয়া তথ্য প্রবিষ্ট করে মামলাটি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তিনি সিস্টেমে নথিভুক্ত করেন যে, নিখোঁজ নারীর সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি নিজ ইচ্ছায় আড়ালে আছেন। বাস্তবে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে ওই নারীর কোনো যোগাযোগই হয়নি।
পরবর্তীকালে মে মাসে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির পরিবার এবং নিখোঁজ নারীর পরিবার পুনরায় অভিযোগ জানালে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়। কিন্তু ততক্ষণে সিসিটিভি ফুটেজ মুছে যাওয়ায় প্রাথমিক অনুসন্ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময় নষ্ট হয়ে যায়।
তদন্ত ও বর্তমান অবস্থা:
নথি জালিয়াতি ও দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে জরুরি ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ওই স্টেশনের ঊর্ধ্বতনদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। চারটি মৃত্যুর কারণ এবং এগুলোর মধ্যে কোনো আন্তঃসম্পর্ক রয়েছে কি না, তা বের করতে ন্যাশনাল ফরেনসিক সার্ভিসের মাধ্যমে ডিএনএ ও ময়নাতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ।
মন্তব্য লিখুন
আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রকাশ করা হবে না। প্রয়োজনীয় ঘরগুলো * চিহ্নিত।